Wednesday, December 31, 2008

ভুলি নাই তাহারে ...



পিতার সরকারী চাকুরির কল্যাণে আমাকে জীবনে বহু জায়গায় থাকিতে হইয়াছে। তাহার পোস্টিং যখন চিটাগং-এ ছিল তখন আমরা চিটাগং শহরের সি.ডি.এ. তে এক বাসার নিচ তলায় থাকিতাম। সেইখানেই তাহার সহিত আমার পরিচয়। আমাদের পাশের বাসায় তাহারা থাকিত। আমি তখন অনেক ছোট। মাত্র ক্লাস ১-২ তে পড়ি। ভালবাসা অনুভব করিবার মতন মানসিক বিশালতা তখনও বোধ করি আমার হয় নাই। সুতরাং তাহার প্রতি আমার যে অনুভূতি ইহাই যে ভালবাসা, ইহার জন্যই যে বালক-বালিকারা তাহাদের সর্বস্ব উজাড় করিয়া দিতে এতটুকু দ্বিধা করে না তাহা বুঝিতে আমার অনেক দেরী হইয়া গিয়াছিল। ততদিনে পাশে তাকাইয়া আর তাহারে পাই নাই।

ছোট ছোট মানুষের, ছোট ছোট অভিমান কিন্তু বিশাল তাহার গভীরতা। মা যখন বলিত, ' আর খেলিতে হইবে না ' বা ' পড়িতে বস ', ' আজ টিভি দেখিয়া কাজ নাই ' তখন তা আমার ছোট অনুভূতিতে বড় দাগ কাটিত। আমি তখন মুখখানা বাংলা ৫ এর ন্যায় করিয়া বাসার সামনের সিড়িতে বসিয়া নিঃশব্দে বড় মানুষদের প্রতি আমার বিস্বাদ প্রকাশ করিতাম। তখন-ই হঠাৎ  মরুর বুকে ঝর্ণাধারার মতন তাহার আবির্ভাব ঘটিত। বলাবাহুল্য যে আমার অগ্নিসম অভিমান নির্বাপনে সেই ঝর্ণাধারার এক ফোটা পানিই যথেষ্ট ছিল।

গল্পের নারীকুলের হাসি হইতে যদি মুক্তা ঝরিয়া থাকে তবে তাহার হাসিতে হীরক ঝরিত যাহা আমার কাচের ন্যায় হৃদয় কে টুকরা টুকরা করিত প্রতি মুহূর্তে। তাহার অধর চুইয়া যে হাসি পড়িত, পিপাসার্ত আমি তাহার এক বিন্দুও অপচয় করিতাম না। তাহার কপোলের চুল সরাইবার মাঝে যে অনুপম স্বকীয়তা আছে তাহা আমি আর কাহারও মাঝে দেখি নাই। বহুজনের মাঝে বহুজনরে খুজিয়া পাই কিন্তু কাহারো মাঝে তাহারে খুজিয়া পাই নাই।

একদিন বৈকালে আমাদের বাড়িওয়ালার পুত্রের সহিত তাহার দ্বিচক্রযান ভ্রমণের কথা আমি আজও ভুলি নাই। হঠাৎ করিয়া বাড়িওয়ালা পুত্রের অসাবধানতাবশত সে ভূপাতিত হইল। এই দৃশ্য দেখিয়া আমার অন্তরে সুখ বাদ্য বাজিয়া উঠিল। আমি এতখানি খুশী হইয়াছিলাম যে একখানা আনন্দসূচক শব্দ করিয়া ছিলাম। অনেকে হয়ত ইহাকে তাহার পতন দৃশ্য দেখিয়া আমার আনন্দের বহিঃপ্রকাশ বলিয়া ভাবিতে পারেন কিন্তু বাস্তবে তাহা ভুল। তাহার প্রতি বাড়িওয়ালা পুত্রের এরূপ উদাসীনতাই আমার আনন্দের কারণ ছিল। আর কোনোদিন সে বাড়িওয়ালার পুত্রের সহিত দ্বিচক্রযানে ভ্রমণ করিবে না- এ কথা ভাবিয়া এতখানিই খুশী হইয়াছিলাম যে পতনোক্ত তাহার যে ব্যাথা অনুভূত হইতে পারে তাহা আর আমার মাথায় আসে নাই। ক্ষমা করিবেন পাঠকবৃন্দ, আমি তখন অনেক ছোট ছিলাম।

এই ঘটনার পর আমি আমার পিতার নিকট একখানা দ্বিচক্রযানের জন্য বায়না পেশ করিলাম। আমার অনেক সাধ ছিল তাহার সহিত দ্বিচক্রযানে ভ্রমণ করিব। অবশেষে আমার পিতা আমাকে একখানা দ্বিচক্রযান কিনিয়া দিয়াছিলেন বটে কিন্তু আমার সাধ আর পূরণ হয় নাই। কারণ দ্বিচক্রযান চালানো শিখা সহজ ছিল না। যতদিনে আমি দ্বিচক্রযান চালানো শিখিয়াছিলাম ততদিনে আমাদের পরিবার ওই বাসা ত্যাগ করিয়াছিল।

ওই বাসা ত্যাগের পর দীর্ঘদিন তাহার সহিত আমার দেখা হয় নাই। অনেক দিন কাটিয়া গেলো। শৈশব-কৈশোরও আমার পাশ কাটাইয়া গিয়াছে অনেক দিন হইল। এখন আমি বড় হইয়াছি। পিতা মাতা সহ ঢাকায় বসবাস করিতেছি। কিন্তু তাহাকে ভুলি নাই এতটুকুও। আজো সে আছে আমার মনের মাঝে যেইভাবে তখন ছিল। আজও চিটাগং যাইলে সেই বাসায় একবার ঘুরিয়া আসিতে আমার ভুল হয় না। জানিনা আর কোনোদিন তাহার দেখা পাইব কিনা তবুও শূন্য দৃষ্টি তাহারে খুজিয়া ফেরে শত মানুষের ভীড়ে।

আজও ভুলি নাই তাহারে, জানি ভুলিব না। আজও মমতাময়ী সে আমার কাছে স্বকীয় এক মানবী।

Monday, September 8, 2008

স্বপ্নকর



স্বপ্নহীন হে,
খুজে ফেরো প্রতিটি অসুস্থ মুখে -
হারানো স্বপ্নটিকে।
পাবে না জানি।

জানি তুমি অন্ধকারের বাসিন্দা
আলোই দেখনি কখনো,
স্বপ্ন দেখবে কেমন করে?
অন্ধকার মাঝে আলো দেখাই তো স্বপ্ন।
আমি যা দেখি প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত।

আসছি আমি,
আগামীর সুবাতাস নিয়ে তোমাদের ভীড়ে,
স্বপ্নহীনদের মাঝে।
অস্ত্রহীন আমি আসছি যুদ্ধ জয় করতে
স্বপ্ন দিয়ে, কেবলই স্বপ্ন দিয়ে।

তোমরা স্বপ্ন দেখ না নীল আকাশের, আমি দেখাব।
তোমরা স্বপ্ন দেখ না শ্বেত শুভ্র মেঘের, আমি দেখাব।
তোমরা স্বপ্ন দেখ না রক্তিম সূর্যের, আমি দেখাব।
তোমরা স্বপ্ন দেখ না ধান ক্ষেতে বয়ে যাওয়া বাতাসের, আমি দেখাব।

যে দেশের জন্ম একটি স্বপ্ন থেকে,
সে দেশের মুক্তি হবে আজ -
আরেকটি স্বপ্নের মাধ্যমে।
আজ থেকে স্বপ্ন দেখব আমরা -
মায়ের চোখে ভালবাসার স্বপ্ন,
প্রিয়ার চোখে অনাগত ভবিষ্যতের স্বপ্ন,
স্বপ্ন, স্বপ্ন, শুধুই স্বপ্ন।
স্বপ্নহীন তোমরা হবে স্বপ্নময়,
এখানে জীবন হয়ে উঠবে ছন্দময়।

আর আমি?
চলে যাব অন্য কোন স্বপ্নহীনদের মাঝে, স্বপ্ন দেখাতে
আমি যে স্বপ্নকর।

Sunday, August 10, 2008

বাংলা মুভি রিভিউ : রিকশাওয়ালার প্রেম



বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ট্রাক ব্যবসায়ী সফদর আলী তরফদারের একমাত্র আদরের কন্যা কেটি। মা মরা এই মেয়েটাকে সফদর সাহেব অনেক স্নেহ করেন। মেয়ের কোন ইচ্ছাই তিনি অপূর্ণ রাখেন নাই। অনেক শখ করে মেয়ের নাম রেখেছিলেন কইতরী। কিন্তু বড়লোকের মেয়ের status-এর সাথে এই নাম যায় না তাই কইতরী তার নাম পালটে করে দিল কেটি। সফদর সাহেবের নামটা মোটেও পছন্দ হয় নাই কিন্তু একমাত্র মেয়ে বলে মেনে নিলেন।

কেটি গুলশানে তার আলীশান বাড়ির দোতালার বারান্দায় বসে রোদে চুল শুকাচ্ছিল। বাসার সামনের রাস্তা দিয়ে এলাকার রিকশাচালক সমিতির উঠতি নেতা কেরামত তার রিক্সা চালিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ রাস্তা দিয়ে গার্মেন্টসকর্মী সখিনাকে হেটে যেতে দেখে কেরামত শিষ দিল। ভুল বুঝাবুঝির কারণেই হোক অথবা বাংলা সিনেমা বলেই হোক সেই শিষের শব্দ কেটি সাহেবার কানে গেল। কেটি সাহেবার শিশু মন ধনী-গরীব বুঝে না। তাই কেরামতের সুরেলা শিষে “খাইরুন গো”-র টিউন শুনে কেটি তার প্রেমে পড়ে গেল। সেলুকাস, কি বিচিত্র এই বাংলা সিনেমা।

সেদিনই বারান্দা দিয়ে কেটি আর কেরামতের প্রথম পরিচয়। কেরামতেরও কেটিকে প্রথম দেখায় ভাল লেগে গেল। সিনেমার এই পর্যায়ে একটি প্রেমের গান(১)। কিছুদিন পর তাদের মধ্যে চিঠির সাহায্যে ভাবের আদান প্রদান হতে লাগল। মোবাইলের যুগেও তাদের মধ্যে চিঠি আদান প্রদান হচ্ছিল কারন কেরামতের কাছে মোবাইল ছিল না। কেটি কেরামতকে মোবাইল কেনার জন্য টাকা সাধলেও কেরামত তা নিতে রাজি হল না। কারন কেরামত আগেই পণ করেছিল যেদিন সে নিজের টাকায় একটা রিক্সার ওয়ার্কশপ খুলতে পারবে সেদিন সে মোবাইল কিনবে। ধীরে ধীরে কেটি কেরামত সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারল। জানতে পারল, পিতৃহীন কেরামত শুধু শিক্ষিতই না বরং উচ্চ শিক্ষিত। ঢাকা শহরে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠা কোন এক ইউনিভার্সিটি থেকে সে অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছে। কিন্তু পাশ করার পর কোন চাকরি না পেয়ে আজ সে রিক্সার ইঞ্জিনিয়ার(মিস্ত্রি) ও পার্ট-টাইম রিক্সাচালক। ছাত্র অবস্থায় যে ছেলে গাড়ি বানানোর স্বপ্ন দেখত সেই কেরামত আজ রহিম মিয়ার ওয়ার্কশপে রিক্সা মেরামত করে। বিধির কি নিঠুর খেলা। সিনেমার এই পর্যায়ে একটি দুঃখের গান(২)।

কেটি আর কেরামতের সে প্রেম প্রেম খেলা যখন ধীরে ধীরে সেমিফাইনালের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল তখনই হঠাৎ সফদর সাহেব ব্যাপারটা ধরে ফেললেন। তিনিও তথা কথিত বাংলা সিনেমার ব্যতিক্রম না করে স্বীয় আদরের কন্যাকে একঘরে করে রাখলেন। সেইসাথে নিজের জিগরি দোস্ত কাদের মোল্লার একমাত্র লাফাঙ্গা ছেলে দাউদ ওরফে ড্যানি-র সাথে কেটির বিয়ে ঠিক করে ফেললেন।

ঘটনাক্রমে কেটির বিয়ে ঠিক হওয়ার কথা কেরামত জেনে গেলো। সে তার বন্ধুদের পরামর্শে সফদর সাহেবের কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেল। কিন্তু সফদর সাহেব কেরামতকে দেখেই ক্ষেপে গেলেন এবং বললেন কেটিকে বিয়ে করার কোন যোগ্যতাই তার নেই। সফদর সাহেব কেরামত কে বললেন তারা ধনী আর কেরামত গরীব। ধনী-গরীবের মধ্যে এইরকম সম্পর্ক অসম্ভব। কিন্তু কেরামত, সফদর সাহেবকে বিভিন্ন বাংলা সিনেমার রেফারেন্স দিয়ে বলল, “পৃথিবীতে অসম্ভব বলে কিছু নেই”। অতপর সফদর সাহেব তাদের গ্যারেজ ভরা গাড়ির কথা বললে কেরামতও তার রিক্সার গ্যারেজের কথা বলে ও আমাদের দৈনন্দিন জীবনে রিক্সার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে। এরপর সফদর সাহেব কেরামতকে তাদের বিশাল সম্পত্তি ও জমি-জমার হিসাব শুনালে কেরামতও জানিয়ে দেয় মিরপুরে তাদের ২ বিঘা জমির কথা। কেরামত ওই জমিতে একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি করার যে স্বপ্ন দেখে তাও সে কেটির বাবাকে জানিয়ে দেয়। কিন্তু তাতেও কোন লাভ হয় না। কেটির বাবা কোন মতেই কেরামত কে মেয়ের জামাই হিসেবে পছন্দ করতে পারে না। শেষে সফদর সাহেব কেরামতকে visionless ছেলে বললে কেরামত এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। নিজের একটা ওয়ার্কশপের যে স্বপ্ন সে বুকে ধারণ করে আছে তা সে সফদর সাহেবকে জানায়। ঢাকা শহরে নিজের একটা রিক্সার ওয়ার্কশপ থাকা যে কতটা সম্মানের এবং রিক্সার পিছনে ‘কেরামত মিস্ত্রি’ লেখা থাকা যে কি দারুন একটা ব্যাপার তা সে কেটির বাবাকে বুঝানোর সাধ্যমত চেস্টা করে। অবশেষে যুক্তি দিয়ে কেরামতকে পরাস্ত করতে না পেরে সফদর সাহেব তার দারোয়ান দিয়ে কেরামতকে বাড়ি থেকে অপমান করে বের করে দিলেন। সিনেমার এই পর্যায়ে আরো একটি দুঃখের গান(৩)।

এদিকে ওইদিনই ড্যানির মেয়ে দেখতে কেটিদের বাসায় যাওয়ার কথা। কিন্তু পথিমধ্যে কোন এক অজানা কারনে ড্যানির গাড়ি নষ্ট হয়ে গেল। বেচারা ড্যানির গাড়িহারা হওয়ায় রিক্সা ছাড়া কোন গতি রইল না। আশ্চর্যজনকভাবে ঠিক ওই সময় অপমানিত কেরামত মনের দুঃখে ‘বুকটা ফাইট্টা যায়’ গাইতে গাইতে রিক্সা নিয়ে পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। রাস্তায় এত রিক্সা থাকতে ড্যানিও কেরামতের রিক্সায়ই উঠে বসল। 

যাত্রাপথে আরেক কাহিনী। রাস্তা দিয়ে গার্মেন্টসকর্মী সখিনাকে হেটে যেতে দেখে আবারো শিষ দিল। কিন্তু এইবার শিষটা কেরামত দিল না, দিল লুইচ্চা ড্যানি। সখিনাকে কেরামত কেটির ব্যাকআপ হিসেবে দেখত। তাই সখিনার সাথে এরূপ ফাইজলামির সে প্রতিবাদ জানায়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ড্যানি কেরামতের গায়ে হাত তোলে। কেরামত এতে চরম ক্ষেপে গিয়ে ড্যানিকে পিটিয়ে তুলোধুনো করে ও অবশেষে নায়কসুলভ সহানুভূতি দেখিয়ে তাকে হাসপাতালে পৌছে দেয়। বেচারা ড্যানির আর সেদিন মেয়ে দেখতে যাওয়া হল না।
দুইদিন পর ড্যানি সুস্থ হয়ে কেটির বাসায় গেল। সেদিন আবার কেটি কেরামতের সাথে পালানোর প্ল্যান করেছিল। প্ল্যান মোতাবেক কেটি তার পেন্সিল হিল স্যান্ডেল দিয়ে জানালার কাচ ভেঙ্গে বিছানার চাদর দিয়ে তৈরী দড়ি বেয়ে নিচে অপেক্ষমান কেরামতের কাছে আসল। এদিকে কেটির রূমে এসে কেটিকে না পেয়ে তার বাবা ড্যানিকে জানাল। ড্যানি কেটিকে খুজতে বাইরে এসে দেখল কেটি কেরামতের সাথে রিক্সা নিয়ে পালাচ্ছে। কেরামতকে চিনতে পেরে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে ড্যানি তার সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে ওদের তাড়া করে। কেরামত পালানোর অনেক চেষ্টা করলেও ফার্মগেটের জ্যামে পড়ে ধরা খেয়ে যায়। ড্যানির বেদম প্রহারে কেরামত জ্ঞান হারায় আর কেটিতে ড্যানি তার গোপন আস্তানায় নিয়ে যায়।

জ্ঞান ফেরার পর কেরামত নিজেকে রক্তাক্ত অবস্থায় অসংখ্য ভাংতি টাকা আর পয়সার মঝে আবিস্কার করে। সে বুঝতে পারে লোকজন তাকে ফকির ভেবে এই টাকা দান করেছে। যাই হোক, কেরামত গুনে দেখে সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজার টাকা(!!!) আছে। সে তাড়াতাড়ি পাশের এক দোকান থেকে তার বন্ধু আক্কাসকে ফোন করে বলে দেয় ১২ হাজার টাকা দিয়ে সে যেন রহিম মিয়ার ওয়ার্কশপ কিনে নেয়। ১ দিনের মধ্যেই কেরামত রহিম মিয়াকে টাকা শোধ করে দিবে। অতঃপর সে আক্কাসকে বলে ৫০ জনের একটা লাঠিয়াল রিক্সাবাহিনীকে ফার্মগেট পাঠিয়ে দিতে। পণ অনুযায়ী ওয়ার্কশপ কিনার পরই কেরামত ৮ হাজার টাকা দিয়ে একটি Maximus-এর China মোবাইল সেট ও একটি ডিজুস সিম কিনল। অবশিষ্ট টাকা সে আসন্ন বিয়ের খরচ হিসেবে তার ব্র্যাক ব্যাংকের একাউন্টে জমা রাখল। ইতোমধ্যে তার লাঠিয়াল রিক্সাবাহিনী ফার্মগেট এসে পৌছল। সিনেমার এই পর্যায়ে একটি রক্ত গরম করা গান(৪)। কেরামত তার নয়া মোবাইলে GPS tracker দিয়ে কেটির মোবাইল track করে কেটির অবস্থান বের করল এবং তাকে উদ্ধারের জন্য রওনা হল। এভাবেই কেটি আর কেরামতের সে প্রেম প্রেম খেলা ফাইনালে উপনীত হল।

কেটিকে নিয়ে ড্যানি তার গাজীপুরের আস্তানায় আসল। অনেক চেষ্টা করেও ড্যানি কেটিকে বিয়েতে রাজি করাতে পারল না। কোন উপায় না দেখে ড্যানি কেটির বাবাকে ধরে আনতে লোক পাঠালো। এর মাঝে ড্যানি আর কেটির মধ্যে হালকা হাতাহাতি(!!!) হল। সিনেমার এই পর্যায়ে কেটি ‘তুই আমার দেহ পাবি কিন্তু মন পাবি না’ টাইপের একটা গান(৫) গেয়ে ফেলল। গান শেষ হতেই কেটির বাবাকে হাজির করা হল। ড্যানি সফদর আলীর মাথায় বন্দুক(খেলনার) ধরে কেটিকে বিয়েতে বাধ্য করতে চাইল। 

ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে কেরামত হাজির হয়ে গেল। কেরামতকে দেখে ড্যানি কথায় কথায় প্রচন্ড ভাব নিয়ে মুখের সিগারেটটা ছুড়ে ফেলল। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, সেই জ্বলন্ত সিগারেট গিয়ে পড়ল পেছনে রাখা তেলের ড্রামের উপড়। অমনি বিকট শব্দে বিস্ফোরণ। হলিউডের কোন সিনেমা হলে এই বিস্ফোরণের আগুন আর ধোয়া প্রায় আকাশ ছুয়ে যেত। কিন্তু বাজেট স্বল্পতার কারনে এই সিনেমায় চুলার আগুন দেখিয়ে সেই বিশাল বিস্ফোরণের হালকা আমেজ দর্শকদের দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

যাই হোক, বিস্ফোরণ শেষে দেখা গেল কেরামত, তার রিক্সাবাহিনী, কেটি আর কেটির বাবা ছাড়া ঘটিনাস্থলে আর সবাই মারা গেছে। যথারীতি সবকিছু শেষ হওয়ার পর পুলিশ উপস্থিত হল এবং গ্রেফতার করার মত কাউকে না পেয়ে খালি হাতেই চলে গেল। 

এভাবেই কেরামত বিনাযুদ্ধে যুদ্ধজয় করল। কেরামতের এহেন বীরত্ব দেখে কেটির বাবা তার মেয়েকে কেরামতের হাতে তুলে দিতে রাজি হলেন। কেটি আর কেরামতের সে প্রেম প্রেম খেলার ফাইনাল এখানেই সমাপ্ত হল। সিনেমার এই পর্যায়ে আরো একটি প্রেমের গান(৬)।

সমাপ্ত

Thursday, July 24, 2008

যে কবিতাগুলো আমার লেখার কথা ছিল কিন্তু সময়ের অভাবে লেখা হল না


ঈশ্বর আপনাকে আপনি লুকিয়ে রাখেন আবার কি সুন্দর করেই না নিজেকে প্রকাশিত করেন।
- অজানা
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আঁধার দেখেছি তবু আছে অন্য বড় অন্ধকার
মৃত্যু জেনেছি, তবু অন্য সম্মুখীন মৃত্যু আছে;
পেছনের আগাগোড়া ইতিহাস রয়ে গেছে, তবু
যেই মহা-ইতিহাস এখনো আসেনি তার কাছে
কাহিনীর অন্য অর্থ, সমুদ্রের অন্য সুর, অন্য আলোড়ন
হৃদয় অ বিষয়ের মন এক অন্য দীপ্ত মন। . . . . . .
- জীবনানন্দ দাশ
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমারে করিও ভয় - জেনো আমি তোমাদের নহি একজন;
তোমরা গড়েছ গৃহ, রচিয়াছ শান্তি ভরা সংসার - অঙ্গন।
আর আমি
কিছু মানি নাই, জানি নাই ভালোমন্দ, আলো অন্ধকার
পৃথিবী ঘুমায়ে রয়, সুন্দরের পানে মোর মত্ত অভিসার।
- অজানা
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------
এইখানে সরোজিনী শুয়ে আছে -
জানিনা সে এইখানে শুয়ে আছে কিনা -
- জীবনানন্দ দাশ
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------
অতন্দ্রিলা,
ঘুমাওনি জানি
তাই চুপিচুপি গাঢ় রাত্রে শুয়ে বলি শোন,
সৌর - তারা ছাওয়া এই বিছানায়, সূক্ষ্মজাল রাত্রিএ মশারি
কতদীর্ঘ দুজনার গেলো সারাদিন,
আলাদা নিঃশ্বাসে -
এতক্ষণে ছায়া-ছায়া পাশে ছুঁই
কী আশ্চর্য দুজনে, দুজনা
অতন্দ্রিলা,
হঠাৎ কখনশুভ্র বিছানায় পড়ে জ্যোৎস্না।
দেখি তুমি নেই। . . .
- অমিয় চক্রবর্তী (রাত্রি)
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------
এভাবে নয়, এভাবে ঠিক হয় না।
নদীর বুকে বৃষ্টি পড়ে পাহাড় তাকে সয় না।
এভাবে নয়, এভাবে ঠিক হয় না।
কীভাবে হয়? কেমন করে হয়?
কেমন করে ফুলের কাছে রয়
গন্ধ আর বাতাস দুই জনে . . .
. . . . . . . . . . . . . . . . . . .
এভাবে হয়, এমনভাবে হয়।
-শক্তি চট্টোপাধ্যায়

Sunday, June 29, 2008

আহা কি বরষা!!! আমার মেজাজ খারাপ ...


আহা কি শৈল্পিক বরষা!!! ঘরে বসে বৃষ্টি পড়া দেখতে ভালই লাগছিল। কিন্তু ঢাকা শহরে বৃষ্টির দিনে বাসায় বসে থাকা যতটা আনন্দের, বাইরে বের হওয়া ততটাই বিরক্তিকর।

সকালে স্বর্গীয় ঘুমের জন্য ভার্সিটির ৮ টার ক্লাশ মিস করলাম। ভাবলাম যাই হোক ১১ টার ক্লাশটা করতেই হবে। ১০ টায় বাসা থেকে বের হলাম বাসের কাউন্টারের উদ্দেশ্যে। রাস্তায় প্রায় এক হাটু পানি পাড় হয়ে কাউন্টারে গিয়ে দেখি সেখানে আমার আগে আরো প্রায় ১৫০ লোক দাড়িয়ে আছে। কোনো বাস নেই। মোহাম্মাদপুর থেকে মহাখালি যাওয়ার জন্য ওয়ান লাইন আর তরঙ্গ ছাড়া আর কোনো বাস সার্ভিস নেই। ১০:৪৫ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকে বুঝলাম বাস আসবেনা। এর মধ্যে যে CNG খুজি নাই তাও না। কিন্তু কোনো CNG-ই পেলাম না। ওয়ান লাইন-এর এই অবস্থা দেখে আর তরঙ্গের কাউটারে যাওয়ার ইচ্ছেও আর হল না। ভাবলাম শ্যামলী যাই। সেইখানে লেগুনা যদি পাওয়া যায়।

যেই ভাবা সেই কাজ। কিন্তু কিসের কি? মিরপুর রোডের সব গাড়িগুলো যেন ছবির মত স্থির হয়ে গেছে। আগায়-ও না, আবার পিছায়-ও না। সেইখানে আরো আধা ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে যখন ঘড়িতে দেখলাম ১১:৩০ বাজে তখন বুঝলাম আজ আর ভার্সিটি গিয়ে কাজ নাই। এখন রওনা দিলেও ১২:১৫ আগে পৌছতে পারবনা। ক্লাশ বাং। সুতরাং বাদ। ঘরের ছেলে ঘরেই ফিরে যাও, আর বৃষ্টির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ কর।
আমি তাই করলাম।

বৃষ্টির দিনে এইটাই যেন ঢাকা শহরের নিয়ম হয়ে গেছে। সবাই এই নিয়ম মেনে চলে। আমি-ই বা এই নিয়ম ভাঙ্গি কি করে?

Saturday, February 23, 2008

বালক - বালিকা (১ম পর্ব)



হ্যাঁ বালক, তোমাকেই বলছি . . .
প্রেমিকার শরীর ঘেঁষে হাঁটছ, হাসছ।
ঘৃণ্য মানসিকতায় একটি মেয়েকে ঠকাচ্ছ প্রতিনিয়ত,
ভালোবাসাকে গলা টিপে তুমি করছো নিহত।
হত্যা করছো পৃথিবীর আরেকটি সৌন্দর্যকে,
কি বলব আজ তোমাকে?
তোমার নগ্ন মনের অস্থির কামনায়,
বাতাসে তোমার প্রেমিকার ওড়না সরে যায়।
ক্ষুদ্র কামনার তাড়নে আজ তুমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছ,
প্রকাশ্যে চুমু খাচ্ছ তবু নির্লজ্জের মত হাসছ।

হ্যাঁ বালিকা, তোমাকেই বলছি . . .
অন্ধ হয়ে তুমি সেই ছেলেটিকে ভালোবাসছ।
ভালবাসা নয়, সেই ছেলেটি হয়তো অন্য কিছু চায়,
জড়িয়ে দিচ্ছ কেন নিজেকে আজ নিষিদ্ধ সে মায়ায়?
কিসের আশায় নিজেকে তুমি অমন করে সাজাও?
কার কথায় বাতাসে তোমার ওড়না সরিয়ে দাও?
ধ্বংস করছো নিজেকে, বিলিয়ে দিচ্ছ দিবা - নিশি,
নষ্ট করে নিজেকে, আজ বাতাসকে করেছো দোষী।

জেনে রাখ,
ভালোবাসা নয় বেহায়াপনা, যা ইচ্ছা তা করা,
ভালোবাসা হল বালক - বালিকার আশ্চর্য বোঝাপড়া।

Saturday, February 16, 2008

আমি বাংলাদেশকে দেখেছি


আমি গ্রীষ্মকে দেখেছি-
কাঠফাটা রৌদ্রের আড়ালে,
কখনো সুমিস্ট ফলের সুতীব্র ঘ্রাণে, কখনো প্রাণের হাহাকারে।

আমি বর্ষাকে দেখেছি-
কালো মেঘের বজ্রনাদের মাঝে,
কখনো বিষণ্ণ অঝর বারিধারায়, কখনো প্রলয়ংকরী বন্যায়।

আমি শরৎকে দেখেছি-
সাদা মেঘের ভেলায় ভাসতে,
কখনো রোদেলা দুপুরে, কখনো তীব্র নীল আকাশে।

আমি হেমন্তকে দেখেছি-
বিনম্র শান্ত শুভ্র বসনে,
কখনো পাকা ধানের শীষে বয়ে যাওয়া বাতাসে, কখনো কৃষকের হাসিতে।

আমি শীতকে দেখেছি-
কুয়াশার চাদরে মুড়ি দিয়ে,
কখনো শিশির মাড়াতে, কখনো দরিদ্র বৃদ্ধার জীর্ণ দেহে বেদনা ছড়াতে।

আমি বসন্তকে দেখেছি-
ঋতুরাজের বেশে,
কখনো ফুটন্ত ফুলের মাঝে, কখনো কোকিল হয়ে সকাল কিংবা সাঁঝে।

আমি বাংলাদেশকে দেখেছি-
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ছয়টি রূপে,
কখনো রাগে, কখনো অনুরাগে।